Monday, 15 April 2013

সাক্ষীদের জবানবন্দিতে প্রমাণিত আওয়ামীলীগ বিডিয়ার হত্যাকান্ডে জড়িত


এই পোস্টের লেখাটি অত্যান্ত সংবেদনশীল ..এখানে সাক্ষীদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে বিডিয়ার সেনবাহিনী হত্যাকান্ডে আওয়ামী ষয়যন্ত্র কিভাবে তাপস নানকরা বিডিয়ার হত্যাকান্ডের আগে পরিকল্পনা করেছিল

বিডিয়ার হত্যাকান্ডের একজন প্রতক্ষ্য সাক্ষীর জবানবন্দী দেখলে ব্যাপারটি আরো ক্লিয়ার হবে।

সাক্ষী সিপাহী (ব্যান্ড ) আলমগীর ..নং ..৫৯১০০ ..৩৯ রাইফেল ব্যাটালিয়ান, সংযুক্ত আরটিসিএন্ডএস (ব্যান্ড) ....

গত ফেব্রুয়ারী ২০০৯ তারিখে ডিএডি জলিল প্রথমে বিদ্রোহের পরিকল্পনার কথা জানায়। ওই দিন আমাদেরকে বলা হয় দরবার যেদিনই হোক , সেদিনই অফিসারদের জিম্মি করা হবে এবং আমাদের দাবি দাওয়া প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হবে। দাবি দাওয়া পূরণ করে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলে অফিসারদের ছেড়ে দেওয়া হবে।

পরে ২২ ফেব্রুয়ারী ০৯ তারিখে রোল কলের পর আমরা বাইরে একটি বাসায় জন সংসদ সদস্যের সাথে দেখা করি। সেখানে অন্যানদের মধ্যে ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপস আরেকজন সংসদ সদস্যের সাথে সাক্ষাত করে আমাদের দাবি দাওয়া সম্পর্কে জানালে তারা আমাদের পরিকল্পনার কথা শুনেন এবং সম্মতি দেন।

এটি স্পস্ট যে ওই বাসাটি ছিল আওয়ামীলীগ এমপি ফজলে নুর তাপসের। একজন সামান্য বিডিয়ার কিভাবে একজন সংসদ সদস্যের সাথে দেখা করতে পারেন। যখন তাদেরকে এই পরিকল্পনার কথা জানালেন তারা কেন বাধা না দিয়ে দাবির সাথে সম্মতি জানালো ? তাহলে এটি স্পস্ট যে সরকার আগে থেকেই প্লান করে এই কাজ করিয়েছিল।

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০০৯ রোলকলের পর গলফ গ্রাউন্ডের পাশে বাস্কেটবল গ্রাউন্ডে আনুমানিক ২২.০০ ঘটিকায় চূড়ান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ..ডিএডি জলিল উক্ত পরিকল্পনার সময় সকলকে ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করেন। ওই সময় আনুমানিক ৪০/৫০ জন উপস্থিত ছিল এবং সকলকে টি দলে বিভক্ত করা হয়।


২৫ ফেব্রুয়ারী ২০০৯ তারিখ সকাল আনুমানিক :৩০ ঘটিকায় আমি সহ আরো জন সদর ব্যাটালিয়ন দরবার হলের মধ্যবর্তী স্থানে আশ্রয় নেই। আমাদের দ্বায়িত্ব  ছিলো এই জায়গা দিয়ে যে সকল অফিসার আসবে তাদের গুলি করা। যদি আত্মসমর্পণ করে তাহলে গুলি না করে গাড়িতে করে আর এস ইউ ইউনিট এর ডাইনিং হলে জিম্মি করা হবে।


আনুমানিক সকাল :৩০ ঘটিকার দিকে গোলাগুলি শুরু হলে কয়েকজন অফিসার সদর ব্যাটালিয়নের সামনের রাস্তা দিয়ে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে যাবার জন্য আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। আমি , সিপাহী আবুল গুলি করি . এই তিন জনের গুলিতে তিনি মারা যান। হাবিলদার বক্কর আমিনুল সামাদ এর গ্রুপ তখন দরবার হলের বাহিরে ভিতরে ফায়ার করছিল . শুধু মাত্র যারা পালাতে বা লুকাতে সক্ষম হয় তারা হত্যাকান্ড থেকে বেছে যায়। আনুমানিক সকাল ১০ ঘটিকার মধ্যে এই সকল কাজ শেষ হয়ে যায়।


ডিজির বাসায় আনুমানিক ১৫/২০ মিনিট থাকার পর আমি নং গেটের দিকে যাই . সময় তখন আনুমানিক ১১:৩০ ঘটিকা .ওখানে গিয়ে দেখি আলোচনার জন্য কয়েকজন সংসদ সদস্য ৪নং গেটের বাহিরে এসেছেন। তখন ডিএডি তৌহিদ জলিল হারুন সহ আরো কয়েকজন সিপাহী জেসিও আলোচনা করেছিল প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করার জন্য ..ওখানে দীর্ঘ আলোচনার পর ডিওডি তৌহিদ এর নেতৃত্বে ১০-১২ জন সদস্য আনুমানিক ১৪:০০ ঘটিকার দিকে সংসদ সদস্যের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাথে  সাক্ষাত করতে যায়।


রাত আনুমানিক ০০০১/০১০০ ঘটিকার দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীসহ আরো কয়েকজন পিলখানায় প্রবেশ করেছেন বলে জানতে পারি। তারা ঘন্টাখানেক ভিতরে অবস্থান করে কয়েকটি অফিসার পরিবারকে নিয়ে যায়। সস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অস্ত্র জমা দেয়ার কথা বললেও বেশি সংখ্যক বিডিআর সদস্যই অস্ত্র জমা দেয়নি। এরপর আনুমানিক রাত ০৪০০ ঘটিকার দিকে এমটির দিকে গিয়ে দেখতে পাই দুইটি লাশ বহনকারী টনের একটি নাই। এরপর জানতে পারি যে ৩০/৪০টি লাশ ইতিমধ্যে হাসপাতালের পাশে গণকবর দেয়া হয়েছে। বাকি ১০ টি লাশ তখন পুর্যন্ত একটি টনে এমটির সামনে রাখা ছিল। সেখানে আমি,নায়েক এমটি আলী হোসেনের কাছে জানতে পারি সুবেদার ইয়াকুব-এর আদেশে লাশগুলো সুয়ারেজ লাইনে ফেলে দেয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। 

এরপর আনুমানিক সকাল ০৫০০ ঘটিকার দিকে এমটি লাইনে নাস্তা করে ইএমই লাইনে এসে বসি। ২৬ফেব্রুয়ারী ২০০৯ তারিখ দিনের বেলা সারা দিন ধরে বিভিন্ন স্থানে বসে থেকে ফাঁকা গুলির আওয়াজ মাইকে জয় বাংলা ,জয় বঙ্গ বন্ধু-স্লোগান শুনতে পাই। আনুমানিক ১৪০০ ঘটিকায় প্রধান মন্ত্রীর ভাষণের পর অস্ত্র দেয়া শুরু হয়। তখন আমি আমার সাথে থাকা পিস্তলটি ১৩ রাইফেল ব্যাটেলিয়ানের কোতে জমা দেই। এরপর আনুমানিক ১৭০০ ঘটিকার দিকে সিগন্যাল সংলগ্ন তারকাটার দেয়াল টপকে গণকটুলি দিয়ে পালিয়ে যাই। পালিয়ে যাবার সময় আমি রাত ৮টা পুর্যন্ত আমার ফপার বাসা হাজারীবাগে অবস্থান করি। পরবর্তীতে ঐদিন রাতেই ট্রেন যোগে চট্টগ্রামে চলে আসি।পরবর্তীতে ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০০৯ তারিখে আনুমানিক ১০০০ ঘটিকার দিকে আরটিসি এন্ড এস- নিজ বাসায় চলে আসি।   

নং ৫৯১০০
সিপাহী (ব্যান্ড) মো: আলমগীর শেখ 
৩৯ রাইফেল ব্যাটেলিয়ান, সংযুক্ত আরটিসিএন্ডএস 
এপ্রিল ২০০৯
জবান বন্দী:
গত ১১ জানুয়ারী ২০০৭ জরিউরী অবস্থা জারীর পর থেকে বিভিন্ন সময় আমাদের দাবী দাওয়া পূরণের জন্য অফিসারদের বিরুদ্ধে কোন না কোন পরিকল্পনা চলতে থাকে।আমাদের দাবী দাওয়া পূরণের লক্ষে হাজারীবাগ এলাকার পরিচিত আইনজীবী ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপস-এর সাথে যোগযোগ করা হয়। তিনি তখন আশ্বাস দেন যে,তাকে ভোট দিয়ে জয় যুক্ত করলে সে বিডিআর-এর সমস্ত দাবি দাওয়া পূরণ করবে। গত জানুয়ারী ২০০৯ তারিখে দাবী দাওয়া পূরণের জন্য অফিসারদের ইম্মি করা হবে বলে জানতে পারি। 

১৯ ফেব্রুয়ারী ২০০৯ তারিখের বৈঠকে সকল দাবী দাওয়া প্রস্তাব ২২ ফেব্রুয়ারী ২০০৯ তারিখে স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার তাপসকে জানাও হবে বলে আমাদেরকে জন্য হয়।এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ ফেব্রুয়ারী ২০০৯ সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার তাপসের উপস্থিতিতে অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য তোরাব আলী (সন্ত্রাসী লেদার লিটনের পিতা) বাসায় বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকের সময়সীমা ছিল আনুমানিক ১৯৩০ থেকে ২১০০ ঘটিকা। 
বৈঠকে আমাদের দাবী দাওয়া এবং পরিকল্পনার কথা মাননীয় সংসদকে জানানো হয়।তিনি আমাদের পরিকল্পনার কথা শুনেন এবং তাতে সম্মতি দেন। তিনি আমাদেরকে বেশি অফিসারকে না মেরে / জনকে হত্যা করার সম্মতি দেন। সে বৈঠকে ব্যারিস্টার তাপসের সাথে আরেকজন সংসদ সদস্য (মোচওয়ালা,কোকড়ানো চুল, চশমা পরিহিত,ফর্সা রঙ-এর)উপস্থিত ছিল 
আমার জানামতে সিপাহী তারেকের সাথে সংসদ সদস্য তাপসের যোগাযোগ ছিল। এমপি তাপসের মাধ্যমে সে তার একজন অত্তীয়কে চাকুরীর দেওয়ার ব্যবস্থাও করে

পরিকল্পনা মোতাবেক সকাল ৯টা থেকে সোয়া ৯টার মধ্যে আমি আমার দলের অন্যান্য সদস্যসহ দরবার হলের পিছনে অবস্থান নেই। সিপাহী মইনুল, সিপাহী তারেক(সদর ব্যাড)সর্ব প্রথম দরবার হলে ঢুকে পরিকল্পনা মাফিক অস্ত্র নিয়ে ডিজির পাশে অবস্থান নেয়। কিন্তু সিপাহী মইনুল হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সিপাহী তারেক কিছুক্ষণের  জন্য বাহিরে চলে আসে এবং এর সাথে সাথেই সিপাহী তারেকসহ ৪৪ আইফেল ব্যাটালিয়নের নায়েক ফরহাদ সিপাহী তোতা মিয়া সদর ব্যান্ডের সিপাহী জসিম আরটিসি এন্ড এসের ব্যান্ডের সিপাহী শাহাবুদ্দিন এসএমজি নিয়ে দরবার হলে প্রবেশ করে। সিপাহী তারেক এর পর সব অফিসারকে দরবার হলের বাহিরে গিয়ে লাইনে দাড়াতে বলে। এসময় অনেকে চিত্কার করতে থাকে সেনাবাহিনী র্যাব পিলখানায় প্রবেশ করেছে বিডিআরদের মেরে ফেলার জন্য। সিপাহী তারেক সময় ডিজিকে লক্ষ্য করে বার্স্ট ফায়ার করে। সাথে সাথে আমি এবং সিপাহী শাহাবুদ্দীন সহ আরো অনেকে লাইনে দাড়ানো অফিসারদের গুলি করা শুরু করি। 

এরপর রাতের বেলায় আমি শুনতে পাই অফিসারদের পরিবারদের কেন্দ্রীয় কোয়ার্টার গার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাদের সাথে দুর্ব্যাবহারও করা হয়েছে।এ কাজে জড়িত ছিল সিপাহী তারেক। 

বিভিন্ন সময় ধরে সমগ্র পিলখানায় জয়বাংলা স্লোগানটি শুনতে পাই এবং আমাদের পিছনে সরকারের সমর্থন আছে বলে সিনিয়র বিডিআর সদস্য কর্তিক আশ্বস্ত হই।  

   
সিপাহী  আলম